শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
দরদামে মিলছে না ক্রেতা-বিক্রেতা

কাদাপানিতে নাকাল পশুর হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট

কাদাপানিতে নাকাল পশুর হাট

ঈদুল আজহার আর মাত্র একদিন বাকি। রাজধানীর বিভিন্ন কোরবানির পশুর হাটে এখন উপচে পড়া ভিড়। তবে টানা বৃষ্টিতে হাটজুড়ে তৈরি হয়েছে কাদাপানির দুর্ভোগ, যার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। এর মধ্যেই চলছে পশুর দরদাম, যদিও অনেক ক্ষেত্রেই মিলছে না ক্রেতা-বিক্রেতার প্রত্যাশা।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে বৃষ্টির পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলা ও শনির আখড়া পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, গরু-ছাগলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকলেও কাদাপানি, যানজট ও অব্যবস্থাপনায় হাটের পরিবেশ বেশ দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। আগের দিনের বৃষ্টিতে হাটের ভেতরে হাঁটুসমান কাদা জমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যাপারীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।

হাটে দেখা গেছে, কোথাও গরু কাদার মধ্যেই দাঁড়িয়ে আছে, আবার কোথাও বিক্রেতারা বাঁশ ও খড় বিছিয়ে অস্থায়ী শুকনো জায়গা তৈরির চেষ্টা করছেন। অনেক বিক্রেতার অভিযোগ, হাট ইজারাদাররা মোটা অঙ্কের টাকা নিলেও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা রাখেননি। ফলে অনেক ক্রেতাই হাটের ভেতরে প্রবেশ না করে দূর থেকেই পশুর দাম জেনে ফিরে যাচ্ছেন।

কুষ্টিয়া, মাদারীপুর, জামালপুর, ফরিদপুর, চুয়াডাঙ্গা, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, টাঙ্গাইল ও ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা খামারি ও ব্যবসায়ীরা জানান, কাদার কারণে যেমন বিক্রি ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি প্রত্যাশিত দামও পাচ্ছেন না তারা।

শনির আখড়া হাটে গরু কিনতে আসা কোনাপাড়া এলাকার হাজি ইব্রাহিম জানান, তিনি এক লাখ ৮৮ হাজার টাকায় একটি গরু কিনেছেন। তার ভাষ্য, বৃষ্টির কারণে অনেকেই আগে গরু কিনতে আসেননি, তবে এখন ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেশি।

অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, গোখাদ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, বেড়েছে পরিবহন ও শ্রমিক খরচও। ফলে কম দামে গরু বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে।

রাজবাড়ীর কালুখালী থেকে আসা শরিফুল ইসলাম বলেন, ক্রেতারা প্রতি গরুতে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা কম দাম বলছেন, যা তাদের জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থেকে ১৪টি গরু নিয়ে আসা মো. ইয়াদাত হোসেন জানান, এখনো তার ৯টি গরু বিক্রি হয়নি। তিনি বলেন, ছোট গরু কিছু বিক্রি হলেও বড় গরুর তেমন চাহিদা নেই। গ্রামের বাজারে যেখানে বেশি দাম মিলছে, সেখানে ঢাকায় এসে উল্টো কম দাম শুনতে হচ্ছে।

জামালপুরের বকশীগঞ্জ থেকে আসা মুনাজ উদ্দিন ১৮টি গরুর মধ্যে মাত্র সাতটি বিক্রি করতে পেরেছেন। তার অভিযোগ, ঢাকায় এনে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় পরিবহন খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, এবার মানুষের হাতে নগদ অর্থ কম থাকায় ক্রেতারা তুলনামূলক কম দামে পশু কিনতে চাইছেন। ফলে ঈদের আগমুহূর্তেও রাজধানীর পশুর হাটে দরদামের এই অচলাবস্থা কাটছে না।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ৭:২১ পিএম | মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

9 News Bd |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
------
Contact

-----------------

ফোন : --------------------

E-mail: -----------------------