আন্তর্জাতিক ডেস্ক | রবিবার, ২৪ মে ২০২৬ | প্রিন্ট

রাশিয়ার অধিকৃত পূর্ব ইউক্রেনে ড্রোন হামলার জবাবে ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে মস্কো। রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে চালানো এ হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং চার শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, হামলায় রাশিয়া তাদের আধুনিক হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ওরেসনিক’ ব্যবহার করেছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম। তিনি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, মধ্য ইউক্রেনের বিলা তেরকভা শহরে এ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। এতে একটি পানি সরবরাহ কেন্দ্র, একটি বাজার এবং একাধিক আবাসিক ভবন ও স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া হামলায় রাশিয়া প্রায় ৬০০টি ড্রোন ও ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। আকাশ, সমুদ্র ও স্থলপথ থেকে সমন্বিতভাবে এ হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ৫৪৯টি ড্রোন ও ৫৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হলেও বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, রাজধানীতে অন্তত দুইজন নিহত ও ৫৬ জন আহত হয়েছেন। শহরের প্রায় সব জেলাতেই ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেছে। একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে সেখানে আগুন ধরে যায়। এছাড়া একটি ব্যবসাকেন্দ্রে হামলার পর বহু মানুষ ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আটকা পড়েন।
রাজধানীর আশপাশের এলাকাতেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। কিয়েভ অঞ্চলের প্রশাসন জানিয়েছে, সেখানে আরও দুইজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন। চেরকাসি ও দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চল থেকেও আহতের খবর পাওয়া গেছে। হামলার তীব্রতায় কিয়েভের কেন্দ্রস্থল কেঁপে ওঠে এবং বহু মানুষ নিরাপত্তার জন্য মেট্রো স্টেশনে আশ্রয় নেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ইউক্রেনে ‘ওরেসনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের নিন্দা জানিয়েছেন। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে দিনিপ্রো শহরে প্রথমবারের মতো এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়া। পরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে লভিভ অঞ্চলেও এটি ব্যবহার করা হয়।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ওরেসনিক’ শব্দের অর্থ হেজেলনাটগাছ। ম্যাক ১০ গতিসম্পন্ন এই ক্ষেপণাস্ত্র ভূগর্ভস্থ গভীর বাংকার ধ্বংস করতে সক্ষম এবং বিদ্যমান ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ফাঁকি দিতে পারে।
রাশিয়া জানিয়েছে, পূর্ব ইউক্রেনের স্টারোবিলস্ক শহরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় বহু মানুষ নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে। ওই ঘটনার পর মস্কো ‘কঠোর জবাব’-এর হুঁশিয়ারি দিয়েছিল।
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রোববার রাতের হামলা ছিল যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর একটি।
ক্ষতিগ্রস্ত বাজারের এক কর্মী সভেতলানা ওনোফ্রিচুক বলেন, “এত ভয়াবহ পরিস্থিতি আগে কখনো দেখিনি। সবকিছু পুড়ে গেছে, এখন কিয়েভ ছেড়ে যাওয়া ছাড়া আর উপায় নেই।”
আরেক বাসিন্দা ইয়েভহেন জোসিন জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় তারা ছিটকে পড়েছিলেন এবং তার অ্যাপার্টমেন্ট পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

Posted ৬:২১ পিএম | রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
9 News Bd | s s


