আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ | প্রিন্ট

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে—এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার দুই নেতার মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ হয় বলে সিএনএনকে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
এর আগে রোববারের এক আলোচনায় ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানোর পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেন। তবে পরবর্তীতে মাত্র একদিনের ব্যবধানে তিনি ওই পরিকল্পনা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেন। কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় মিত্রদের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারীরা সক্রিয় রয়েছে।
মঙ্গলবারের ফোনালাপে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী সামরিক অভিযান পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। প্রায় এক ঘণ্টার ওই আলোচনায় নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে জোর দেন। তার মতে, দেরি করলে কেবল ইরানই লাভবান হবে।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হলো, এখনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ খোলা আছে কি না তা যাচাই করা প্রয়োজন। ট্রাম্প বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরান ইস্যুতে আলোচনা এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চুক্তি হলে ভালো, না হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় থাকবে—তবে তিনি আশা করেন তা প্রয়োজন হবে না।
ইসরায়েলি ও মার্কিন সূত্রগুলোর মতে, এই আলোচনায় দুই নেতার অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ট্রাম্প যেখানে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা দেখতে চান, নেতানিয়াহু সেখানে দ্রুত সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিন ধরেই সন্তুষ্ট নন। বিশেষ করে বারবার কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে পরে আবার তা থেকে সরে আসার প্রবণতা নিয়ে তিনি হতাশ। অন্যদিকে মার্কিন কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের কৌশল সবসময় এক নয়।
সাম্প্রতিক ফোনালাপের পর ইসরায়েলি সরকারের উচ্চপর্যায়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ট্রাম্প বুধবার ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি এখনো তার নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

Posted ১:২০ পিএম | বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
9 News Bd | s s


